দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

খালের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করতে নেমে কাদায় আটকে গেলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা। পরে স্বেচ্ছাসেবীরা তাকে টেনে তুললেও দমে যাননি তিনি। আবারও খালে নেমে পরিচ্ছন্নতা কাজে অংশ নেন। তার এমন উদ্যোগে উৎসাহিত হন অন্য স্বেচ্ছাসেবীরাও।
বরিশালের উজিরপুর উপজেলা পরিষদসংলগ্ন দীর্ঘদিনের ময়লা-আবর্জনায় ভরাট একটি খাল পরিষ্কারে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়। শুক্রবার উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিন বরিশালের সহযোগিতায় প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়।
সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত পাঁচ ঘণ্টা চলে এ কর্মসূচি। এতে অংশ নেন ইউএনও মো. আলী সুজা, বিডি ক্লিনের শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী, স্থানীয় তরুণ-তরুণী ও যুবসমাজের সদস্যরা। তাঁরা খাল থেকে কচুরিপানা, প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিনসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য অপসারণ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে খালটি ময়লা-আবর্জনা ও কচুরিপানায় ভরাট হয়ে ছিল। এতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। দুর্গন্ধের কারণে খালের পাশ দিয়ে চলাচলেও ভোগান্তিতে পড়তে হতো তাদের।
পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়েন ইউএনও মো. আলী সুজা। শুধু নির্দেশনা দিয়েই দায়িত্ব শেষ না করে বিডি ক্লিনের টি-শার্ট পরে স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে নিজেই খালে নেমে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে কাদায় আটকে গেলেও স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তায় উঠে আবার কাজে যোগ দেন।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে একজন সরকারি কর্মকর্তাকে সরাসরি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিতে দেখে অনেকেই তার প্রশংসা করছেন।
বিডি ক্লিনের বিভাগীয় সমন্বয়ক জাহেদ ইরফান বলেন, ইউএনও মো. আলী সুজার আহ্বানে দীর্ঘদিনের ময়লা-আবর্জনায় ভরাট খালটি পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় স্থানীয় তরুণ-তরুণীসহ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী এতে অংশ নেন। ইউএনও নিজে তাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করায় স্বেচ্ছাসেবীরা আরও উৎসাহ পেয়েছেন।
ইউএনও মো. আলী সুজা বলেন, খালের পাশের বাসিন্দাদের ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিনসহ বিভিন্ন বর্জ্যে খালটির পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সরকারি বরাদ্দের অপেক্ষায় না থেকে সম্মিলিত স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে অনেক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। এ পরিচ্ছন্নতা অভিযান তারই উদাহরণ।
তিনি আরও বলেন, অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহিত করতেই একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে নিজে তাঁদের সঙ্গে খালে নেমে কাজ করেছেন। পরিচ্ছন্ন উজিরপুর গড়তে নিজেদের উদ্যোগেই কাজ করতে হবে। নাগরিকেরা আন্তরিক হলে নিজ নিজ এলাকার পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব।
তরুণ সমাজকে সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ইউএনও বলেন, তরুণ-তরুণীদের ভালো কাজে যুক্ত রাখার সুযোগ তৈরি করতে হবে। পরিচ্ছন্নতা অভিযানসহ বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে তাদের অংশগ্রহণ বাড়লে মাদকাসক্তি ও মুঠোফোনের অপব্যবহারের মতো নেতিবাচক প্রবণতা থেকেও দূরে রাখা সম্ভব।
স্থানীয় জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শাকিল মাহমুদ বাচ্চুসহ কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাকে নিজ হাতে খাল পরিষ্কারে অংশ নিতে দেখে সাধারণ মানুষ ও স্বেচ্ছাসেবীরা অনুপ্রাণিত হয়েছেন। এ উদ্যোগের মাধ্যমে নিজেদের বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়েও মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হয়েছে।
যে আই